প্রকৃতি ও প্রত্যয় কাকে বলে? প্রকারভেদ ও বোর্ড প্রশ্নের উদাহরণ
- ক্রিয়াপ্রকৃতিঃ কোনো ক্রিয়াপদকে ভাঙলে এমন একটি মূল অংশ পাওয়া যায় যাকে আর ভাঙা যায় না। ক্রিয়াপদের এই মূল অংশকেই ক্রিয়প্রকৃতি বলে। যেমন- পড়ি একটি ক্রিয়াপদ এবং এর মূল অংশ পড়্ হলো ক্রিয়াপ্রকৃতি।
*** ক্রিয়াপ্রকৃতি ক্রিয়ামূল বা ধাতু নামেও পরিচিত। এই ধাতু দিয়ে ক্রিয়াপদের অন্তর্নিহিত অর্থ বা ভাব প্রকাশ পায়। অনেক পুস্তকে ধাতু নির্দেশ করার জন্য তার পূর্বে মূল চিহ্ন (√) ব্যবহার করা হয়। -
নামপ্রকৃতিঃ নামপদের মূল অংশকে নামপ্রকৃতি বলে। যেমন- মেয়েরা একটি নামপদ এবং এর মূল অংশ মেয়ে হলো নামপ্রকৃতি।
প্রাতিপদিক সম্পর্কে না জানলে প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের ধারণা অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। আসুন জেনে নেই, প্রাতিপদিক কাকে বলে? প্রতিপদ থেকে প্রাতিপদিক শব্দটি এসেছে। আর প্রতিপদ শব্দের অর্থ হল আরম্ভ বা সূচনা। এই মর্মে বলা যায়, যা থেকে পদের আরম্ভ বা সূচনা হয়, তাকে প্রাতিপদিক বলে। এক কথায় বলা যায়, বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। মনে রাখতে হবে যে, মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ধরনের শব্দই প্রাতিপদিকের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ লাজ, বড়, ঘর - এই মৌলিক শব্দগুলো যেমন প্রাতিপদিকের উদাহরণ, তদরূপ সাধিত শব্দ - উত্তরবঙ্গ, হিমালয় ইত্যাদিও প্রাতিপদিকের উদাহরণ।
প্রত্যয় কত প্রকার ও কি কি?
প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথাঃ ১. কৃৎ প্রত্যয় এবং ২. তদ্ধিত প্রত্যয়।
- কৃৎ প্রত্যয়ঃ ধাতু বা ক্রিয়ামূলের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদেরকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমনঃ পড়্ + আ = পড়া। এখানে আ প্রত্যয়টি একটি ধাতু পড়্ এর পরে যুক্ত হয়ে নতুন একটি শব্দ পড়া গঠন করেছে। তাই আ প্রত্যয়টি একটি কৃৎ প্রত্যয়। কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ফলে যেসব শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে কৃদন্ত শব্দ বলে। অতএব পড়া শব্দটি একটি কৃদন্ত শব্দ।
- তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদেরকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমনঃ ঢাকা + আই = ঢাকাই। এখানে আই প্রত্যয়টি একটি শব্দ ঢাকা এর পরে যুক্ত হয়ে নতুন একটি শব্দ ঢাকাই গঠন করেছে। তাই আই একটি তদ্ধিত প্রত্যয়। তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ফলে যেসব শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিতান্ত শব্দ বলে। অতএব ঢাকাই শব্দটি একটি তদ্ধিতান্ত শব্দ।
💡 মনে রাখতে হবে, প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
বিভিন্ন অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয়ের ব্যবহার
এসএসসি পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন করা হয় শব্দটিতে কোন অর্থে প্রত্যয় যুক্ত করা হয়েছে। তাই অর্থের বিবেচনায় শ্রেণিবিভাগ করে এসএসসি পরীক্ষায় আসার উপযোগী প্রত্যয় সাধিত শব্দগুলোকে নিচে দেয়া হলো।
অবজ্ঞা অর্থেঃ
- চোর + আ = চোরা। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়
- কেষ্ট + আ = কেষ্টা। দিনাজপুর বোর্ড-২০২২
আগত অর্থেঃ
- দখিন + আ = দখিনা। কুমিল্লা বোর্ড-২০২৪ বরিশাল বোর্ড-২০২৩
জাত অর্থেঃ
- ঢাকা + আই = ঢাকাই। যশোর বোর্ড-২০১৭
নিন্দা অর্থেঃ
- জেঠা + আমি = জেঠামি। দিনাজপুর বোর্ড-২০২৪
নৈপুন্য অর্থেঃ
- না + ইয়া = নাইয়া → নেয়ে। গভর্নমেন্ট মডেল গার্লস হাইস্কুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
📌 অন্যান্য উদাহরণের মতো, "না + ইয়া = নেয়ে" লিখলেও সঠিক হবে। কিন্তু এখানে যে একটি মধ্যবর্তী ধাপ আছে তা অজানা থেকে যাবে। 'না' ধাতু বা শব্দের সাথে 'ইয়া' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে প্রথমে ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী মধ্যবর্তী রূপ 'নাইয়া' তৈরি হয়। পরবর্তীতে ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়মে 'নাইয়া' পরিবর্তিত হয়ে চূড়ান্ত রূপ 'নেয়ে'-তে রূপ নেয়।
বৃত্তি বা পেশা বা উপজীবিকা অর্থেঃ
- ডাক্তার + ই = ডাক্তারি।
- জল + ই = জেলে। চট্টগ্রাম বোর্ড-২০২২
বৃহৎ অর্থেঃ
- ডিঙি + আ = ডিঙা। রাজশাহী বোর্ড-২০২৩
ভাব অর্থেঃ
- বাহাদুর + ই = বাহাদুরি। রাজশাহী বোর্ড-২০২৪ ময়মনসিংহ বোর্ড-২০২৩
- ইতর + আমি = ইতরামি। বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- পাগল + আমি = পাগলামি। রাজশাহী বোর্ড-২০২২
সদৃশ অর্থেঃ
- বাঘ + আ = বাঘা। যশোর বোর্ড-২০২৩
যুক্ত অর্থেঃ
- টাক + ও = টেকো। দিনাজপুর বোর্ড-২০২৩ কুমিল্লা বোর্ড-২০২২
বাংলা ব্যকরণের অন্যান্য বিষয়ের নোটগুলো নিচে দেখুন।
📘 বাংলা ২য় পত্র
- ধ্বনি ও বর্ণ : বাংলা ব্যাকরণের পূর্ণাঙ্গ রিভিশন নোট (SSC ও HSC)
- প্রকৃতি ও প্রত্যয় কাকে বলে? প্রকারভেদ ও বোর্ড প্রশ্নের উদাহরণ