সাদ্দাম হুসাইন ইরাকে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের পূর্বেই তার পিতা মারা যান। সাদ্দামের মা দ্বিতীয় বিবাহ করার পর তার সৎ পিতা সাদ্দামের উপর অনেক নির্যাতন করেন। এই কারণে দশ বছর বয়সে সাদ্দাম তার মাতার বাসা থেকে পালিয়ে যান এবং নিজের মামার সাথে বসবাস আরম্ভ করেন। তার মামা একটি ছোট রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। ফলস্বরূপ সাদ্দামও ঐ রাজনৈতিক দলে যোগদান করেন।
সাদ্দামের বয়স যখন চব্বিশ বছর তখন আমেরিকার সিআইএ সংস্থার সাহায্যে তৎকালীন ইরাকের নেতাকে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ত্রিশ বছর বয়সে নিজ দেশ ইরাকের নেতা হিসেবে উপনিত হন। ক্ষমতা গ্রহণের ছয় দিনের মাথায় একটি সম্মেলন ডাকেন এবং ঐ সকল লোকদের নাম প্রকাশ করেন যারা তাকে হত্যা করতে চান। যাদের নাম প্রকাশ করেন তাদের অনেককে হত্যা করেন এবং বাকিদেরকে জেলবন্দী করেন।
একই সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ইরানে আয়াতুল্লাহ খামেনি ক্ষমতায় আসেন। সাদ্দাম তাকে নিজের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেন এবং ইরানে হামলা করেন। ইরান এর জবাব হিসেবে ইরাকের তেল বিক্রির পথগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে ইরাকের অর্থনীতিতে ধ্বস নেমে আসে। আট বছর এই যুদ্ধ চলে আর প্রায় দশ লক্ষ মানুষ মৃত্যু বরণ করেন।
সাদ্দাম যুদ্ধের সময় আরবের অনেক দেশের কাছ থেকে টাকা ঋণ হিসেবে নেয়। যুদ্ধের পর ইরাকের অর্থনীতির চাকা সচল হলে তারা নিজেদের ঋণের টাকা ফেরত চাইলে সাদ্দাম বলেন তোমাদের কথায়ই আমি যুদ্ধ লিপ্ত হয়েছিলাম তাই আমি কোনো টাকা দিতে বাধ্য নই।
কুয়েত তখন বদলা নেয়ার জন্য নিজেদের তেল অনেক কম দামে বিক্রি করা আরম্ভ করে। যার ফলে ইরাকের তেল ব্যবসায় ধ্বস নেমে আসে। উত্তরে সাদ্দাম কুয়েত দখল করে নেন। তখন আমেরিকা কুয়েতে হামলা করে এবং এক মাসের মধ্যে পুরো কুয়েত থেকে সাদ্দামের দখল মুক্ত করে দেয়।
ইরাক বুঝতে পারে যে আমেরিকার সাথে যুদ্ধে জয় সম্ভব নয়। ফলে ইরাক কুয়েত থেকে সরে যায় কিন্তু যাওয়ার আগে ইসরায়েলের উপর ৪০ টি মিসাইল ছুড়ে দেন। সাদ্দাম তারপর অনেক বদলে যান। পুরো ইরাকে মদ নিষিদ্ধ করেন। কুরআন পাঠকে বাধ্যতামূলক করেন। আমেরিকার আরোপ করা স্যাংকশনের কারণে ইরাকের অর্থনীতি আবার ধ্বসে পরে।
কিছুদিন পরে ইরাকের দুই জেনারেল পালিয়ে আমেরিকা যান এবং সাক্ষী দেন যে সাদ্দাম একজন হিংস্র একনায়ক। সাদ্দাম নিউক্লিয়ার অস্ত্র বানাচ্ছে। এই দুই জেনারেল প্রকৃতপক্ষে সাদ্দামের দুই কন্যার স্বামী ছিলেন। সাদ্দাম বলেন যে, তোমরা দেশে ফিরে আসো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিবো। কিন্তু দেশে আসলে তাদেরকে বলেন কন্যাদের তালাক দিতে এবং তালাক দেয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাদের মেরে ফেলা হয়।
একসময় আমেরিকা সাদ্দাম ও তার দুই ছেলের উপর ভারি অংকের টাকা পুরস্কার রাখে যেন মানুষ তাদেরকে ধরিয়ে দেয়। দুই ছেলেকে হত্যা করা হয়। আর সাদ্দাম ধরা পরলে আত্মসমর্পন করেন। আদালত তাকে ফাঁসির আদেশ দেয়।