← Back to Articles List

কারবালার ইতিহাস

মুহাম্মদ সা. এর মৃত্যুর ৪৮ বছর পর তার দৌহিত্র হোসাইন রা. কে শহীদ করা হয়।

কুফাবাসী বারবার হযরত হোসাইন রা. এর হাতে বাইয়্যাত গ্রহণ করবে বলে জানাতে থাকলে তিনি 'মুসলিম ইবনে আকিল রা.' কে কুফায় পাঠান। 'মুসলিম ইবনে আকিল' কুফায় 'হোসাইন রা.' এর পক্ষে ১২ হাজার লোকের বাইয়াত গ্রহণ করেন। এরপর ইয়াজিদ এর পক্ষ থেকে জিয়াদকে গভর্নর বানিয়ে কুফায় পাঠানো হয়। জিয়াদ বাই কিন্তু 'মুসলিম ইবনে আকিল' যখন ধরা পড়ে যান এবং যুদ্ধের আহ্বান জানান, তখন মাত্র ৪ হাজার লোক তার ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হন। এই ৪ হাজার লোকও পরবর্তী ১২ ঘন্টার মধ্যে তাকে ত্যাগ করে চলে যান ঘুষ নিয়ে। 'মুসলিম ইবনে আকিল' এমন অবস্থায় উপনীত হন যে, তার কাছে খাদ্য-পানীয়েরও ব্যবস্থা ছিল না। অতঃপর 'মুসলিম ইবনে আকিল' কিন্দার এক বৃদ্ধ মহিলার কাছে ভিক্ষুকের পরিচয় দিয়ে খাদ্য-পানীয় সংগ্রহ করেন। অতঃপর নিজের পরিচয় দিলে বৃদ্ধা 'মুসলিম ইবনে আকিল' কে তার বাসায় আশ্রয় দেন। কিন্তু বৃদ্ধার ছেলে ইয়াজিদ বাহিনীকে 'মুসলিম ইবনে আকিল' এর সন্ধান দিয়ে দেয়। 'মুসলিম ইবনে আকিল' কে মিনারের উপর থেকে ফেলে দিয় হত্যা করা হয়। তিনি মৃত্যুর আগে বলেন ইয়া আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকেন এই কুফাবাসী, এই শিয়ারা ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করেছে।

এখানে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, ইয়াজিদ কোনো বড় সৈন্যের দল পাঠায় নি কুফায়, 'ইবনে জিয়াদ' এর সাথে মাত্র ১৭ জন লোক এসেছিল। কুফাবাসী ভবিষ্যতে কি হতে পারে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে গেলে তার ভয়ে এবং ঘুষের টাকার লোভে পড়ে 'মুসলিম ইবনে আকিল' কে ধোকা দিয়েছিল।

আর ঐদিকে হোসাইন রা.' মক্কায় ঘোষণা দেন যে, উনি কুফায় যাচ্ছেন। তখন বয়োজেষ্ঠ্য সাহাবিরা তাকে যেতে মানা করেন। তাকে এটাও বলা হয়, স্মরণ কর এই কুফাবাসী তোমার বাবাকেও ধোকা দিয়েছিল। কুফাবাসী ভরসার যোগ্য নয়। তখন 'হোসাইন রা.'  উটের পিঠে থাকা ব্যাগভর্তি চিঠির কথা বলেন, তিনি বলেন দেখুন কত মানুষ চিঠি পাঠিয়েছে! নিশ্চয়ই কুফাবাসী আমাকে সহায়তা করবে। 'হোসাইন রা.' কারো কথা তোয়াক্কা না করে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। এই কথা জানতে পেরে 'ইবনে উমার রা.' পথে 'হোসাইন রা.' কে যেতে মানা করেন। 'ইবনে উমার রা.' যখন দেখেন কোনো ভাবেই থামানো যাচ্ছে না, তিনি একটি হাদিস বর্ণনা করেন। হাদিসটি ছিল: "মৃত্যু শয্যায় জিবরাঈল আ. রাসূল সা. কে বলেছিলেন, আপনি চাইলে দুনিয়া নিতে পারেন অথবা আল্লাহর সাক্ষাৎ। রাসূল সা. আল্লাহকে চয়ন করেন।" অতঃপর ব্যাখ্যা করেন যে, হোসাইন আপনি রাসুল সা. এরই অংশ। রাসূল যখন দুনিয়া চয়ন করেন নাই। তার মানে এই দুনিয়ার ক্ষমতা আপনিও পাবেন না। কিন্তু 'হোসাইন রা.' তাতেও থামেননি।

'হোসাইন রা.' যখন কুফার কাছাকাছি চলে আসেন, তখন 'ইবনে আশ্‌আদ' এর বার্তাবাহক তার কাছে আসেন এবং জানান যে, কুফাবাসী আপনার প্রতি দেয়া বাইয়াত ভঙ্গ করেছে; 'মুসলিম ইবনে আকিল' কে হত্যা করা হয়েছে; তিনি আপনাক মক্কায় চলে যেতে বলেছেন। এখন ঘটনার বুঝতে পেরে তিনি পিছপা হতে রাজি হলেন। কিন্তু তার সাথে 'মুসলিম ইবনে আকিল' এর ছেলেরাও ছিল; তারা তাদের বাবার হত্যার বদলা না নিয়ে যেতে রাজি নন। যেহেতু তারা সবার বাধা অমান্য করে 'হোসাইন রা.'এর সাথে এসেছিলেন, 'হোসাইন রা.' ও এখন তাদের মাঝপথে ছেড়ে দিতে রাজি হননি। তাছাড়া 'হোসাইন রা.'এর সাথীরা এটও বলেন যে, আপনি রাসূল সা.এর বংশধর। আপনি কুফায় প্রবেশ করলে, কুফাবাসী অবশ্যই আপনার সমর্থন করবে। 'হোসাইন রা.'ও এই কথায় আস্থাশীল ছিলেন (সুন্নি মুসলিম মতে)। 

কিন্তু শিয়া মুসলিমদের মতে 'হোসাইন রা.' জানতেন পরাজয় অনিবার্য, তাও তিনি অগ্রসর হয়েছেন!

৩রা মহররম, কারবালা প্রান্তরে 'হোসাইন রা.' এর দলকে ইয়াজিদের পক্ষের সেনাপতি 'উমার ইবনুল সাদ' এর দল ঘেরাও করে। 'হোসাইন রা.' কে জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কেন মক্কা ছেড়ে কুফায় এসেছেন। 'হোসাইন রা.' বলেন এই দেখো কুফাবাসীর পাঠানো চিঠি। কুফাবাসী তোমাদের নেতৃত্ব চায় না, তারা আমাকে তাদের নেতা নির্ধারন করতে ইচ্ছুক এবং আমি তা গ্রহণ করার জন্যই এসেছি। কিন্তু আমি শুনতে পেরেছি যে, কুফাবাসী তাদের কথা থেকে সরে দাড়িয়েছে। যদি সত্যিই এটা হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে প্রত্যাবর্তন করতে দাও। এই কথা শুনে 'উমার ইবনুল সাদ', জিয়াদের কাছে বার্তাবাহক পাঠায়। জিয়াদ বলে, 'হোসাইন রা.' কে কুফায় এসে ইয়াজিদের পক্ষে তার হাতে বাইয়াত করতে। কিন্তু 'হোসাইন রা.' এটা মানতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি ৩টি বিকল্প দেন:

   ১. আমাকে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করতে দাও।
   ২. আমাকে সরাসরি ইয়াজিদের সাথে দেখা করতে দাও, আমি ইয়াজিদের সাথে মামলা দফারফা করে নিব।
   ৩. আমাকে সীমান্তে পাঠিয়ে দাও যেখানে আমি কাফিরদের সাথে লড়াই করে শহীদ হয়ে যেতে পারি।

ড. কলবে সাদেক বলেন হোসাইন রা. এর হত্যার ফতোয়া ঐ সময়ের একজন বড় মুফতি দিয়েছিলেন। কারণ, হাদিসে আছে একজন খলিফার বাইয়্যাত হওয়ার পর দ্বিতীয় আরেকজন দাঁড়ালে তাকে হত্যা করে ফেল। ১ 45:45

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এর ছেলে তাকে প্রশ্ন করেন: আমরা কি ইয়াজিদকে ভালোবাসবো? উত্তর: তুমি কি দেখো কোনো ইমানদারকে তাকে ভালোবাসতে? পুত্র আবার প্রশ্ন করেন: তাহলে কি আমরা তাকে লানত দিব? উত্তর: তুমি কি আমাকে দেখেছ কাউকে নাম ধরে লানত করতে?

শি'য়াদের মতে তারা হোসাইন রা.' এর মৃত্যুর জন্য দায়ী নয়। কারণ, মদিনাবাসী 'হোসাইন রা.' এর জন্মের সময় থেকেই জানত যে, তিনি কারবালার ময়দানে শহীদ হবেন। উমর ইবনে সাদ যখন মসজিদে যেতেন তখন মানুষ বলত এই দেখো হোসাইনের হত্যাকারী যাচ্ছে! এই কথায় অপমানবোধ করায় তিনি হোসাইন রা. এর নিকট গিয়ে বলেন, দেখুন তারা আমার ব্যাপারে মিথ্যা রটনা করছে, আমি আপনাকে কখনোই হত্যা করবো না। হোসাইন রা. উত্তর করেন, বনি উমাইয়ার মানুষ আমাকে হত্যা করবে। অত:পর তিনি রাসূল সা. এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, এই জ্ঞান কি হোসাইন আপনার নিকট থেকে লাভ করেছেন? উত্তরে রাসূল বলেন, না আমার থেকে জ্ঞান লাভের প্রয়োজন নেই হোসাইনের।

উৎস:
The Massacre of Karbala: A Historical Analysis - Dr. Yasir Qadhi, https://www.youtube.com/watch?v=nm7mKOTZ0qQ&ab_channel=YasirQadhi

১) Karbala Ka Waqia کربلا - Hazrat Imam Hussain R.A Ki Shahadat- Reality & Facts - Dr Israr Ahmed Bayan | https://www.youtube.com/watch?v=W3Qp8wKWKr8&ab_channel=Dr.IsrarAhmed

২) Lecture 2 - The Betrayal of Kufa? | Sayed Muhammed Rizvi - https://www.youtube.com/watch?v=CpZjRkDYgJ8&t=173s&ab_channel=MinnesotaJamaat